সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
মাত্র দেড়লাখ টাকা মুক্তিপণ চেয়ে না পেয়ে রিয়াদ (৭) নামে এক শিশুকে নির্মমভাবে খুন করা হয়েছে। ঘটনার ১১ দিন পর বুধবার ৫ মে ২০২১ সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুঁড়ির একটি বিল থেকে রিয়াদের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ। শিশু রিয়াদ খুনের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে রিয়াদের চাচাতো ফুফা সুজন(৩০)কে গ্রেপ্তার কেেছ পুলিশ। এ ছাড়াও গত ২৪ এপ্রিল বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল শিশু রিয়াদ। ২৮ এপ্রিল একটি মোবাইল নাম্বার থেকে রিয়াদের বাবার কাছে ফোন করে দেড় লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।এ ঘটনায় ওইদিন রিয়াদের বাবা সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি জিডি করেন। মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে এবং রিয়াদের বাবার সন্দেহের ভিত্তিতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার তদন্ত কর্মকর্তা সাইফুল এবং উপ-পরিদর্শক শওকত তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত সুজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত সুজন শিশু রিয়াদকে হত্যার কথা স্বীকার করে এবং লাশের সন্ধান দেয়। শিশু রিয়াদকে শ^াসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা পুলিশের।পুলিশ জানায়, ২৪ এপ্রিল শিশু রিয়াদকে অপহরণ করে ওই রাতেই তাকে হত্যার পর লাশটি গুম করার উদ্দেশ্যে জালকুঁড়ি এলাকার বিলে একটি ডোবায় পানিতে ভাসমান জঙ্গলের নিচে লুকিয়ে রাখে সুজন।আটককৃত আসামী জালকুড়ির একটি রোলিং মিলে কাজ করতো এবং সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীর চর সুমিলপাড়া এলাকায় বাস করতো। অপরদিকে শিশু রিয়াদের পরিবার সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীর মুনলাইট এলাকায় করিম মিস্ত্রির বাড়ির ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতো।শিশু রিয়াদের বাবা দিনমজুর রাজু জানান, তার পরিবার এবং অভিযুক্ত আসামী উভয়ের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধায়। কর্মসূত্রে তারা সিদ্ধিরগঞ্জে ভাড়াটিয়া হিসেবে আলাদা আলাদা ঠিকানায় বসবাস করে।রাজু বলেন, নিখোঁজের দিন বিকেলে আমার ভায়রা সুজন আমার দুই ছেলেকে দোকান থেকে কেক কিনে দেওয়ার জন্য নিয়ে যায়। পরে আমার দুই ছেলে কেক নিয়ে বাসায় আসে এবং আমার বড় ছেলে রিয়াদ আবার বাসা থেকে বেড়িয়ে যায়। এরপর থেকে সে নিখোঁজ হয়।আমরা তাকে না পেয়ে খোঁজাখুজি করতে শুরু করি। আমাদের সাথে সুজনও খোঁজ করে। সুজন মাইক ভাড়া করে মাইকিংও করে।পরে অন্য একটি অপরিচিত ব্যক্তির ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বার থেকে ফোন আমার কাছে দেড় লক্ষ টাকা মুক্তিপন দাবি করে। কন্ঠ শুনেই সুজনকে আমার সন্দেহ হয়। আমি সাথে সাথে পুলিশকে বিষয়টি জানাই।নারায়ণগঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ মেহেদী ইমরান সিদ্দীকি বলেন, উক্ত ঘটনায় মুক্তিপন দাবি করা মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে ঘটনার সাথে জড়িত সুজন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজুর চাচাতো বোনের জামাই এই সুজন। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মশিউর রহমান বলেন সুজন ছাড়া আর কেউ এ ঘটনায় জড়িত রয়েছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে,এ ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের কর হয়েছে। এছাড়াও সুজনের বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে বলে জানালেন স্থানীয়রা। এদিকে রিয়াদকে হারিয়ে বাবা মা বার বার মুর্চা যাচ্ছেন। তাদের সান্তনা দেওয়ার ভাষা নেই কারো।